বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজে প্রবেশ করায় আপনাকে অভিনন্দন।

We have 97 guests and no members online

×

Error

There was a problem loading image Principa-P-2.jpg

বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলাধীন বদলগাছী উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ ‘বঙ্গবন্ধু সরকারি মহাবিদ্যালয়’। প্রাচীন বিদ্যাতীর্থ ও প্রাচীন স্থাপত্যকলার নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের গৌরবজনক ইতিহাসকে ধারন করে ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্যোগে “বঙ্গবন্ধু কলেজ” নামে এর যাত্রা শুরু হয়। এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন জনাব মোঃ মতিয়ার রহমান চৌধুরী এবং তিনি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। কলেজটি স্থাপনের লক্ষ্যে প্রথম দিকে জনাব কুদ্দুস মোল্লা ১৩২.৫ শতাংশ পরিমান জমি দান করেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাক্তিগত অনুমতির প্রয়োজন হতো এবং অনুমতি না পাওয়ায় ১৯৭৩ সালে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে “বদলগাছী মহাবিদ্যালয়” রাখা হয়। ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে কলেজটি আত্মীকৃত করা হয় এবং এর নাম পূন:পরিবর্তন করে “বদলগাছী সরকারি কলেজ” রাখা হয়। ০৪ আগস্ট, ২০১৪ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন, স্মারক নং -শিম/ শাঃ৮/ বিবিধ(নামকরণ)-৫/২০১০ অনুযায়ী ‘বদলগাছী সরকারি কলেজের’ নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু সরকারি মহাবিদ্যালয়’ নামে নামকরণ করা হয়। এ বিদ্যাপীঠটি আয়তন অপেক্ষা গৌরবে সমুন্নত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজটি অত্র এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো বিতরণ করে চলেছে। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী (পাস) কোর্স ও অনার্স কোর্স চালু আছে।

 

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বদলগাছি উপজেলা তথা নওগাঁ জেলার সর্বাপেক্ষা গৌরবময় স্থান সোমপুর বিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। আকর্ষণীয় স্থাপত্য, বিপুল আয়তন ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার আজ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের চরম উৎকর্ষতার যুগে খ্রীষ্টিয় অষ্টম শতকে পাল বংশীয় রাজা ধর্মপাল কর্তৃক এটি নির্মিত হয়।খননকালে প্রাপ্ত একটি মাটির “সীল” থেকে জানা যায় যে, এটি “সোমপুর বিহার”। ২৭ একর জমির উপর এটি অবস্থিত। বিহারটির উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৯২২ ফুট এবং পূব©-পশ্চিমে প্রায় ৯১৯ ফুট। এর চারপার্শ্বে রয়েছে ১৭৭ টি আবাসিক কক্ষ, বিহারে প্রবেশ পথ, ছোটখাট অনেক স্তুপ ও মন্দির।উুঁচু ঢিবিতে অবস্থিত সোমপুর বিহার মন্দিরটি দৈর্ঘ্যে উত্তর-দক্ষিণে ৩৫৬ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং প্রস্থে ৩১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি। পাহাড়পুর ধ্বংসাবশেষের প্রথম ধারণা পাওয়া যায় ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানীর ড: ফ্রান্সিসবুকানোন হ্যামিলটনের জরিপ প্রতিবেদনে। সেন বংশের শাসনামলে এ বিহারের গুরুত্ব কমতে থাকে এবং কালক্রমে তা নিশ্চিত হয়ে যায়।

তথ্য সূত্র: বদলগাছি উপজেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-মো: জালাল উদ্দীন।